- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ভাইবা/মৌখিক পরীক্ষা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ভাইবা/মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি

একটি সফল ইন্টারভিউ হলো একজন চাকরি প্রার্থীর জীবনের সফলতার জন্য অপরিহার্য একটি অধ্যায়। তাই ভাইভা চলাকালীন সময় প্রার্থীকে অবশ্যই কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, যাতে ভাইভাটা সবদিক থেকে সাফল্য মন্ডিত হয়। নিজেকে যথা সম্ভব সংযত রেখে ধীরস্থির ভাবে প্রশ্নকর্তার উত্থাপিত সমস্যার সমাধান দিতে হবে। নিজেকে প্রকাশ করতে হবে সাবলীলভাবে। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ, বসা, বেরোনো ও উত্তর দেয়ার সময় প্রার্থীর আচরন ও কথোপকথন দ্বারা নির্ধারিত হয় প্রার্থীর সফলতা বা ব্যর্থতা। নাটক বা যাত্রার শিল্পীরা মাসের পর মাস ধরে নাটক যাত্রার অনুশীলন করে শুধুমাত্র একদিন নাটক বা যাত্রাটি দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের জন্য। একজন চাকরি প্রার্থী হিসেবে নিয়োগকর্তার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের জন্য আপনার প্রস্তুতি কতটা নিখুঁত বা কতটা পূর্ব প্রস্তুতিমূলক? এখানে ভাইভা বোর্ডে অবশ্য পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো যা একজন চাকরি প্রার্থীর সফলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভাইবার জন্য যা যা পড়বেনঃ

•আপনি যেই বিষয়ে অনার্স করছেন তার সম্পর্কে ধারণা নিবেন।
•অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষায় যেই ১ মার্কের প্রশ্নগুলো ছিল এগুলো পড়ে যাবেন।
•৪র্থ বর্ষ পরীক্ষায় যে বিষয়ে ভাল পরীক্ষা দিয়েছেন সেই বিষয় ভাল করে পড়ে যাবেন।
•৪র্থ বর্ষের বিষয় গুলোর নাম এবং বিষয় কোড।
•কলেজের প্রিন্সিপাল,ভাইস প্রিন্সিপাল,ডিপার্টমেন্ট প্রধানের নাম এবং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের নামগুলো জেনে রাখবেন।
•রোল,রেজিঃ নাম্বার এবং পূর্বের ফলাফল জিজ্ঞাস করতে পারে।
•যেহেতু এবার ১০০ মার্কে ভাইভা সময় এবং প্রশ্নের পরিমাণ বেশি হতে পারে।

কেমন পোশাক পড়তে হবেঃ

ছেলেদের ফর্মাল ড্রেস পড়ে যেতে হবে, মেয়েদের ক্ষেত্রে শাড়ি,থ্রি পিস,যারা বোরকা পড়েন পড়ে যেতে পারেন মুখ খোলা রাখবেন।

যেসব নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবেঃ

এডমিট, রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, কলম, ক্যালকুলেটর, স্কেল নিয়ে যাবেন।

ভাইবা পরীক্ষায় রুমে পরীক্ষার্থীদের করণীয়

•রুমে ঢুকার পূর্বে সালাম দিয়ে ঢুকবেন এবং বসার
পূর্বে অনুমতি নিয়ে বসবেন।

•এমন কোন আচরণ করবেন না যাতে শিক্ষক বিরক্ত হয়। প্রশ্নের উত্তর না পারলে সরি বা সরাসরি বলে দিবেন উত্তর মনে পড়ছেনা।

ভাইভা বোর্ডে সফলতার ১০টি টিপস

১• অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সালাম
জানাতে হবে। পরীক্ষকগন বসতে বললে বসতে হবে এবং বসতে না বললে একটু অপেক্ষা করে অনুমতি নিয়ে বসতে হবে। অনুমতি ব্যতিত বসা যাবে না। বসার সঙ্গে সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে হবে। সোজা হয়ে বসুন, পায়ের উপর পা তুলে অথবা পা দুটো আড়াআড়ি করে বসা যাবে না। হাত দুটো টেবিলের উপরে রাখা যাবে না। ভাইভা যারা নিবেন তাদের দিকে সোজাসুজি তাকান, মাটির দিকে বা ঘরের কোণ বা ছাদের দিকে তাকাবেন না।
২• নিজেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন।
আত্নবিশ্বাসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।

৩• একজন প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার
সময় অন্যদের দিকে তাকাতেও ভূলবেন না। অতি সুকৌশলে নিজের বুদ্ধিমত্তা এবং উত্তম গুনাবলী ও জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে পরীক্ষকগনকে ধারনা প্রদানের চেষ্টা করুন।
৪• মনোযোগ দিয়ে প্রথমে প্রশ্নটি শুনুন ও বোঝার চেষ্টা করুন। প্রথমবারে যদি প্রশ্নটি বুঝতে না পারেন তবে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আর একবার প্রশ্নটি করতে বলুন।
৫• উত্তর দেয়ার সময় প্রত্যেকটি শব্দ স্পষ্ট
করে এমনভাবে উচ্চারন করুন যেন সবাই শুনতে পায় এবং খেয়াল রাখুন উত্তরের সাথে যেন আপনার আত্মবিশ্বাস প্রতিফলিত হয়। সময় নষ্ট না করে উত্তর দিন। জানা না থাকলে কালক্ষেপন না করে দ্রুত বলুন, দুঃখিত আমার জানা নেই। অগোছালো ভাবে এদিক সেদিক না ঘুরিয়ে যথাযথ উত্তর দিতে হবে। যুক্তির সাথে বক্তব্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
৬•আচরনে কোন প্রকার জড়তা রাখা যাবে
না। গোমরা মুখে থাকবেন না। নিজেকে হাসি হাসি মুখ করে রাখুন। ভাইভা যারা নিচ্ছেন তাদের সঙ্গে ভুলেও (যদি ঐ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ইচ্ছা থাকে) তর্কে জড়িয়ে পড়বেন না। নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধ মত জানানোর আগে বিনয়ের সাথে বলবেন- মাফ করবেন বা কিছু মনে করবেন না বলে নিন। কর্কশভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া বাঞ্চনীয় নয়। উঁচু গলায় প্রশ্ন এলেও উচু গলায় উত্তর দেয়া যাবে না। স্বাভাবিক স্বরে উত্তর দিন।
৭• মুদ্রাদোষ গুলো সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন
থাকুন। গোঁফে হাত বুলানো, চুল ঠিক করা, নাক চুলকানো, টাই ঠিক করা, গলা দিয়ে শব্দ করা বা জামা কাপড় ঠিক করবেন না। নিজে নিজে হ্যান্ডশেক করার জন্য আগে হাত বাড়াবেন না। নিয়োগকর্তাগন যদি করমর্দনের জন্য হাত বাড়ান তাহলে মোলায়েম ভাবে করর্মদন করুন।
৮• আবেগ তাড়িত হয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে না। উত্তর দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ব্যক্তি, সমষ্টি, জাতি, ধর্ম বা রাষ্ট্র সম্পর্কে কোন প্রকার অবমাননাকর বা অপ্রীতিকর কথা বেয়িয়ে না যায়।
৯• যে কোন বিষয়ে কোন অজুহাত না দেখিয়ে এবং কোন তথ্য সম্পর্কে ছলনার আশ্র্রয় না নিয়ে সততার পরিচয় দিন।
১০• নিজেকে উপস্থাপন করুন
আকর্ষণীয়ভাবে। যেমনটি কোন পণ্যের দক্ষ বিক্রেতা করে থাকেন। যেমনঃ
– নিয়োগকর্তা কি কি গুণ আপনার মধ্যে খুঁজে পাবেন।
– গুন ও মূল্যগত দিক দিয়ে প্রার্থী হিসেবে আপনি কেন অন্যদের থেকে আলাদা এবং আপনাকে নিলে নিয়োগকর্তা কিভাবে লাভবান হবেন।
– প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য আপনি কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারেন।
– আপনার উল্লেখ করার মতো কোন সাফল্যের বিষয় থাকলে বিনয়ের সাথে বলুন।
পরিশেষে বিদায় নেবার সময় সবাইকে ধন্যবাদ দেয়ার পর, সালাম দিয়ে বিদায় নিন।
ভাইভা বোর্ডে আপনাকে যে প্রশ্ন করা হতে পারে
এক একটি পরীক্ষার ভাইভার ধরন এক এক রকম হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ভাইভার প্রশ্ন এক রকম আবার ক্যাডেট কলেজে ভর্তির ভাইভা অন্যরকম। বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা আবার সম্পূর্ন আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা,ক্যাডেট কলেজে ভর্তি ,আর্মির আইএসএসবির ভাইভা এবং বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার সহায়িকা গাইড বইগুলিতে নমুনা প্রশ্ন দেয়া আছে। এখানে শুধু কোম্পানি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কেমন প্রশ্ন করা হয় তার কিছু নমুনা প্রশ্ন দেয়া হলো।(প্রশ্নগুলো নেয়া হয়েছে বাংলাদেশের বিখ্যাত কোম্পানির হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজারগনের নিকট থেকে এবং আমেরিকার মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর উইলিয়াম জি•নিকেল্‌স এবং ফরেষ্ট পার্কের সেন্‌ট লুইস কমিউনিটি কলেজের প্রফেসর জেমস্‌ এম মেকহিউগ এবং সুসান এম ম্যাকহিউগ এর বই থেকে। এছাড়াও কিছু প্রশ্ন নেয়া হয়েছে আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জব প্লেসমেন্ট অফিসার ফ্র্যাঙ্ক এস এন্ডিকট এর রিসার্স পেপার থেকে)। পাঠকদের জানাচ্ছি যে,বর্তমান কর্পোরেট কালচারের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও চাকরি প্রার্থীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এই প্রশ্নগুলো ইংরেজীতে দেয়া হলো যাতে নিয়োগ প্রার্থীরা নিজেদেরকে সেভাবেই প্রস্তুত করতে পারেন।

বিদ্রঃ ভাইবা বোর্ডে ৪/৫ জন শিক্ষক থাকতে পারেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অন্য যেকোন কলেজ থেকে একজন শিক্ষক থাকবেন, যেই কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে সেই কলেজের ডিপার্টমেন্ট প্রধান, ডিপার্টমেন্টের ২/৩ জন শিক্ষক, আপনার কলেজের ডিপার্টমেন্ট প্রধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + nineteen =